Header Border

ঢাকা, বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ইং | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল) ২৯.৯৬°সে

চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা রাজীবের জন্মবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে খল অভিনয় যাদের দ্বারা সমৃদ্ধ, যারা নিজেদের অভিনয় গুণে দর্শকদের মনে অসামান্য ভয় ধরিয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রথম দিকেই থাকবে তার নাম। তার রাগী চেহারা আর জোরালো সংলাপ দর্শকদের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ঠ ছিল।

না, শুধু খল অভিনয়েই নয়, ইতিবাচক চরিত্রেও তার অভিনয় দাগ কেটে আছে দর্শকদের মনে। তিনি কখনও দাম্ভিক বাবা, কখনও সচেতন শিক্ষক আর কখনও ভিলেন হয়ে সিনেমার পর্দায় হাজির হয়েছেন। সেই সব চরিত্রে তার অভিনয় একাধিক প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হয়ে আছে।

বলছি শক্তিমান অভিনেতা রাজীবের কথা। ঢাকাই সিনেমার অন্যতম সেরা ও সফল খল অভিনেতা তিনি। রাজীবের আসল নাম ওয়াসীমুল বারী রাজীব। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন পটুয়াখালীর দুমকীতে। ভাষা আন্দোলনের বছরের প্রথম দিন তথা ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের স্বপ্ন দেখতেন রাজীব। তার ইচ্ছে ছিল নায়ক হবেন। সেই লক্ষে ঢাকায় এসে চলচ্চিত্র পড়ায় ঘুরতেন। কাজের সুযোগ খুঁজতেন। ভাগ্যের দরজা খুলে সুযোগ একদিন আসে। সেটা ১৯৮২ সালের কথা। কিংবদন্তি নির্মাতা কাজী হায়াতের ‘খোকন সোনা’ সিনেমায় নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেন রাজীব।

কিন্তু বিধি বাম। নায়ক রূপে দর্শকদের নজর কাড়তে পারলেন না রাজীব। এরপর আরও একাধিক সিনেমায় তাকে নায়কের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। তবে কোনো সিনেমাই প্রত্যাশানুরূপ সাড়া পায়নি।

পরবর্তীতে নির্মাতারা এবং রাজীব নিজে বুঝতে পারেন যে, তাকে আসলে ভিন্ন পথে এগোতে হবে। সেই লক্ষে ভিলেন চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। এবার আর সাফল্য হাতছাড়া হলো না। ঝাঁঝালো সংলাপে রাজীব মাতিয়ে দেন দর্শকদের। একের পর এক সিনেমায় তিনি খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে নিজেকে নিয়ে যান অনন্য উচ্চতায়।

ঢালিউডের বহু ব্যবসাসফল ও দর্শকনন্দিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন রাজীব। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘আজকের সন্ত্রাসী’, ‘দুর্জয়’, ‘দেনমোহর’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘মহামিলন’, ‘বাবার আদেশ’, ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘ডন’, ‘দাঙ্গা’, ‘ভাত দে’, ‘অনন্ত ভালোবাসা’, ‘রাজা শিকদার’ ও ‘বুকের ভেতর আগুন’ ইত্যাদি।

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে রাজীব অন্তত চার শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। যার বেশিরভাগ সিনেমাতেই তিনি খলনায়কের চরিত্রে কাজ করেছেন।

অভিনয়ের সুবাদে তিনি দর্শকদের কাছ থেকে যেমন ভালোবাসা পেয়েছেন, তেমনি পুরস্কারের মঞ্চেও নিজেকে সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন রাজীব। ‘হীরামতি’, ‘দাঙ্গা’, ‘বিদ্রোহ চারিদিকে’ এবং ‘সাহসী মানুষ চাই’ সিনেমাগুলোর জন্য তিনি চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

ফিল্ম ক্লাবের নির্বাচনে চিত্রনায়িকা পলি
ফিল্ম ক্লাব ঢেলে সাজাতে চান সামসুল আলম-ইকবাল
চার বছর পর সিনেমাহলের পর্দায় কায়েস আরজু
সমঝোতায় আসলেন সাইমন এবং বড়দা মিঠু
রঙ্গনা দিয়ে রূপালি জগতে ফিরছেন শাবনূর
যে কারনে নির্বাচনী প্রচারণায় ডিপজল

আরও খবর