পাকিস্থানে জোর করে দুই হিন্দু তরুণীর ধর্মান্তরকরণ, অভিযুক্ত এক মৌলবি

প্রকাশিত: ১:১৪ PM, জানুয়ারী ১১, ২০২১
শীর্ষ পাকিস্তানে ফের জোর করে দুই হিন্দু তরুণীকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হল। এই ঘটনায় অভিযুক্ত এক মৌলবি। তার নাম মিয়ান আবদুল খালেক। এই মৌলবি আবার এক পাকসেনার অত্যন্ত কাছের মানুষ। জানা গিয়েছে, অপহৃত দুই তরুণীর নাম ধনী কোহলাহি এবং একতা কুমারী। একতা বালুচিস্তানের বাসিন্দা এবং পেশায় শিক্ষিকা।

অভিযোগ, ইয়ার মহম্মদ ভুট্টো নামের এক যুবক একতাকে অপহরণ করে সিন্ধ প্রদেশে আবদুলের দরগায় নিয়ে যায়। সেখানেই একতাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বাধ্য করা হয়। তার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় আয়েশা। এরপর ভুট্টোর সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়। একতার অপহরণের পরের দিনে করাচির জুমা বাজার থেকে ধনীকে একইভাবে অপহরণ করা হয়েছিল। ধনীকেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আবদুলের দরগায়। তাকেও জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয়। এরপর অপর এক মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে ধনীর বিবাহ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, বেশ কয়েক বছর ধরেই পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দু মেয়েদের জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৌলবি আবদুলের বিরুদ্ধে প্রথম ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ উঠেছিল ২০১২-য়। জানা গিয়েছে, আবদুলের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০০ হিন্দু মেয়েকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এই মৌলবির নামে পাকিস্তানের কোনও থানায় এফআইআর পর্যন্ত করা যায়না।

একতা এবং ধনীর ক্ষেত্রেও যথারীতি কোনও অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব হয়নি। পাক সেনার সঙ্গে এই মৌলবির ওঠাবসা রয়েছে। সে কারণেই কোনও থানায় তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ জানানো যায় না বলে খবর। এই মৌলবির সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর দহরম-মহরম সম্পর্ক। অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন তিনি। এমনকি, সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে ঘুরে বেড়ান। ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত আবদুল পাকিস্তান ন্যাশনসল আয়াসেম্বলির সদস্য ছিলেন।