চিত্রনায়ক আবির চৌধুরী এক ফেসবুক পোস্ট লিখেছেন, এই সরকার শুরু থেকেই স্বীকার করেছে, তারা দেশ পরিচালনায় অনভিজ্ঞ। কারণ, তাদের মূল দক্ষতা ছিল এনজিও চালানোয়, রাষ্ট্র চালানোয় নয়। আর সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই তারা এখন দেশের ‘ক্যাপ্টেন’ সেজেছে বিষয়টি হাস্যকর, কিন্তু বাস্তব!
কিন্তু বিষয়টি ভয়ংকর হয়ে ওঠে, যখন দেখা যায় রাষ্ট্র পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এখন ফেসবুক রিয়্যাকশন দেখে নেওয়া হচ্ছে।
উত্তরা মাইলস্টোন কলেজে বিমান দুর্ঘটনার পরদিন এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা আসে, অথচ ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় উঠতেই রাতারাতি সিদ্ধান্ত বদলানো হয়।
শিক্ষা উপদেষ্টা ঘোষণা দেন, একদিনে দুই পেপার নেওয়া হবে! সাথে-সাথে ফেসবুকের চাপেই সিদ্ধান্ত পাল্টে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক ড্রেস কোডের বিজ্ঞপ্তি দেয়, তাতে ফেসবুক উত্তাল হয়ে যায়, আর তখনই তা বাতিল!
এমনকি এই ভয়াবহ বাস্তবতা আরও নগ্ন হয়ে ওঠে, যখন দেখা যায় সবয়ং সরকার প্রধান নিজেই মাইলস্টোন কলেজের দুর্ঘটনার পরপর ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে তহবিল চান, আর মাত্র ৬০–৭০ হাজার প্রতিক্রিয়া আসতেই সেটি ডিলিট করে ফেলা হয়।
পরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় পোষটটি ‘ডিলিট হয়ে গেছে’! প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা একজন নেতা কি এতটাই দায়িত্বহীন? একটি পোস্ট হঠাৎ করে ডিলিট হয়ে যায়! এটা জনগণ কীভাবে বিশ্বাস করবে? এটি কি নিছক প্রযুক্তিগত ভুল, নাকি জনগণের প্রতিক্রিয়ার চাপে পিছিয়ে আসা, এই প্রশ্ন এখন সামনে উঠে এসেছে। আর শুধু সিদ্ধান্ত নয়, মানবিকতার ক্ষেত্রেও সরকারের এই ফেসবুক-নির্ভরতা লজ্জাজনক।
মাইলস্টোন কলেজের দুই শিক্ষক, যারা নিজের জীবন দিয়ে ছোট শিশুদের বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের প্রথমে কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা সম্মান দেওয়া হয়নি। কিন্তু ফেসবুকে যখন জনগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে, তখন হঠাৎ করেই সম্মাননা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়! মানবিকতা কি এখন ফেসবুকের রিয়্যাকশন দেখে নির্ধারিত হবে? এই কি সেই রাষ্ট্রযন্ত্র, যার কাঁধে জাতির দায়িত্ব?
তাহলে বলতেই হয় এখন-এ কেমন সরকার? যাদের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নিতে হয় সোশ্যাল মিডিয়ার লাইকের ওপর নির্ভর করে! রাষ্ট্র কি এতটাই অদক্ষ ও নীতিহীন মানুষের হাতে, যে ফেসবুক না দেখে তারা কিছুই বুঝে উঠতে পারেন না?
আমি মনে করি, এই সরকার আর জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করে না। এক বছর পার হয়ে গেলেও এখনো জনগণের সামনে তারা স্পষ্ট করে বলতে পারছে না, কোন খাতে কী উন্নয়ন হয়েছে। ব্যর্থতা, সিদ্ধান্তহীনতা আর দায়িত্বহীনতার এক দুষ্টচক্রে ঘুরছে রাষ্ট্রযন্ত্র।
আর কতদিন এই প্রহসন চলবে প্রশ্ন রেখে তিনি আরও লিখেন, ইনটোরিয়াম সরকার হিসাবে শপথ নেওয়ার পর থেকে শুধু সংস্কারের গল্পই শুনছি। কিন্তু দেশের মানুষ এখন আর গল্পে ভরসা করে না! আপনাদের দক্ষতা আর প্রজ্ঞা কেমন, সেটা এই এক বছরে মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনা শিশুশিক্ষার ক্লাস নয়! এটা কোটি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন।
গল্প শুনিয়ে, দায় এড়িয়ে আর চলবে না! এবার উত্তর দিন, কী করেছেন? মনে রাখবেন- এই প্রজন্ম সেই দিনই চুপ থাকার সংস্কৃতি ভেঙে দিয়েছে, যেদিন তারা ১৫ বছরের দাপুটে শাসনের সামনে দাঁড়িয়ে ‘না’ বলে রাজপথে নেমে এসেছিল। এখন আর জনগণ ভয় পায় না- বরং প্রশ্ন তোলে, জবাব চায়।
এখন সময় এসেছে, সরকার নিজের কাজের হিসেব দিক। ফ্যাসিবাদের ভয়ের গল্প শুনিয়ে দায় এড়ানোর সময় নেই। আর যদি সত্যিই ফ্যাসিবাদ মাথা তুলে দাঁড়ায়—তবে তার দায়ও এই এক বছরের ব্যর্থ নেতৃত্বের ঘাড়েই বর্তাবে।

২৩.২৯°সে
