Header Border

ঢাকা, রবিবার, ৮ই মার্চ, ২০২৬ ইং | ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল) ৩৩.১৮°সে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ‘রক্তের ওপরে দাঁড়িয়ে সুবিধাবাদীদের বিজয়োৎসব’

‘জুলাই বিপ্লবের (গণঅভ্যুত্থান) বর্ষপূর্তিতে: রক্তের ওপরে দাঁড়িয়ে যদি সুবিধাবাদীরা বিজয় উৎসব করে, তাহলে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না’- শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ব্যবসায়ী ও চিত্রনায়ক পারভেজ আবীর চৌধুরীর করা এমন একটি রক্তগরম করা মন্তব্য ঘুরছে। তিনি সেখানে অতসী কাচের নিচে ফেলেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া পতিত সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুবলীগ নেত্রী মাসুমা রহমান তানিকে। (উল্লেখ- তার ঘনিষ্ঠ খালিদ মাহবুব তুর্য্য। তিনি যুবলীগের সেক্রেটারি পলাতক নিখিলের সহচর। তানি-তুর্য্য মিলে শেখ মুজিবকে নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। শেখ মুজিবের বক্তব্য নির্ভর ওই ছবির নাম ‘চল যাই’। জুলাই-বিপ্লবের সময় এ জুটি স্যোশাল মিডিয়ায় নানা পোস্ট দিয়েছেন আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধেও। নিজেও ছাত্র-জনতাকে ঠেঙ্গাতে নেমেছেন মাঠে)।

পারভেজ আবীর-চৌধুরী লিখেন- গত বছর আজকের (১ আগস্ট) এই রাতটাও ছিল সবচেয়ে অস্থির, সবচেয়ে দীর্ঘ। ৩২’শে জুলাই, গভীর রাত- একফোটা ঘুম ছিলনা চোখে। এদিক-ওদিক ফেসবুকে ঢু-মারছিলাম, কিছুতেই মনকে বসাতে পারছিলাম না। যেন এক অজানা যুদ্ধের প্রাক্কালে ছটফট করছিল পুরো শরীর। এই সেই বিপ্লব , যার নাম জুলাই বিপ্লব।

এই জুলাইয়ের প্রতিটি দিন আমরা কাটিয়েছি বুকের উপর দিয়ে, চোখে ছিল শুধুই এক নির্ভয়ের স্বপ্ন। সেই সময় শহরের অলি-গলি থেকে উঠে এসেছিল সাহসী- ছাত্র, সাধারণ মানুষ, মায়েরা, বাবারা- সবাই মিলে গড়েছিল এক অপরাজেয় প্রতিরোধ। কেউ জীবন দিয়েছে, কেউ চোখের সামনে প্রিয়জনকে হারিয়েছে। এমনকি আমাদের মতো সাধারণ মানুষও সেদিন রাজপথে নামার আগে ভাবতাম- আজ হয়তো ঘরে ফেরা হবে না, আজ হয়তো শহীদের তালিকায় নাম উঠবে।

এই আত্মত্যাগ আর চেতনার আগুনই বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় লিখে দিয়েছে এক নতুন অধ্যায়- রক্তিম, দগদগে আর গৌরবময়।

বছর পেরিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে আমরা কি আদৌ সেই বাংলাদেশে পৌঁছেছি, যে বাংলাদেশের জন্য মুক্তিকামী মানুষ বুকের তাজা রক্ত সেদিন বাংলার বুকে ঢেলে দিয়েছিল?

দুঃখজনক হলেও নির্মম সত্য- মাত্র এক বছরের মাথায় সেই রক্তাক্ত ভূমিতেই গজিয়ে উঠেছে সুবিধাবাদী কুশিলবদের নতুন উৎসব। এ উৎসব ভোগের, ভাগের এবং নির্লজ্জ বঞ্চনার।

শহীদের স্বপ্নকে তুচ্ছ করে, সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই তারা এখন বাণিজ্য করছে- ক্ষমতার এবং পদের। এদের মধ্যে সবচেয়ে সমালোচিত এবং বিতর্কিত ব্যক্তি – বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানি।

আবীর তার পোস্টে তানির সমালোচনা করতে গিয়ে একটি অজানা বিষয়ও সামনে আনেন। তাতে জানা যায় এবারে বিতর্কিত চলচ্চিত্র অনুদানপ্রাপ্তদের মধ্যে মাসুমা তানি তার আপন খালাতো ভাই উত্তর বাড্ডার যুবলীগ নেতা সালাউদ্দিন ইভানকে একটি ছবি পাইয়ে দিতে সাহায্য করেছেন।

তিনি লিখেন- তানির মতো একজন অযোগ্য ব্যক্তি শুধু নিয়োগই পাননি- তার আশপাশে তিনি তৈরি করেছে পরিবারতন্ত্রের বলয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের তালিকায় দেখা যাচ্ছে- সুজন মাহমুদকে (নামমাত্র প্রযোজক) ‘জুঁই’ সিনেমার জন্য অনুদান দেন। যার পরিচালক হিসেবে জানা গেছে চলচ্চিত্রে যার দখল নেই উত্তর বাড্ডার যুবলীগ নেতা সালাউদ্দিন ইভান তানির আপন খালাতো ভাই!

“এটাই হচ্ছে আজকের সাংস্কৃতিক বাস্তবতা- যেখানে যোগ্যতা নয়, সুবিধা-সখ্য হলো পদ পাওয়ার একমাত্র টিকেট-” যোগ করেন আবীর চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, এরআগে যুবলীগের অর্থায়নে শেখ মুজিবকে নিয়ে নির্মিত সিনেমার পরিচালক মাসুমা রহমান তানিকে বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়ার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ হোসেন উজ্জল।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

কম বয়সে বড় স্বপ্ন, ব্র্যান্ড জগতে নিজের জায়গা গড়ছেন ফারিহা
স্বল্পমূল্যের বাজার গড়তে একসঙ্গে লীড মার্কেটিং বিডি ও চিত্রনায়িকা মুনমুন
প্রদর্শনের অযোগ্য হিরো আলমকে নিয়ে উজ্জ্বলের সিনেমা
শিকার’ সিনেমায় অপু বিশ্বাসের সঙ্গে পলাশ
বিএফডিসিতে চিত্রনায়ক ইলিয়াস জাভেদের শেষ শ্রদ্ধা
অভিনেতা ও নৃত্য পরিচালক জাভেদ আর নেই

আরও খবর