বাংলা গানের বর্তমান প্রজন্মের পরিচিত কণ্ঠ প্রতীক হাসান। সংগীত তার রক্তে-কারণ তিনি প্রখ্যাত শিল্পী খালিদ হাসান মিলু-র সন্তান। তবে উত্তরাধিকার থাকলেও নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলতে তাকে যে আলাদা পথ পাড়ি দিতে হয়েছে, সেটাই উঠে এসেছে তার সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে।
নিজের সংগীত পরিচয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রতীক বলেন, তিনি নিজেকে একক কোনো সংজ্ঞায় বাঁধতে চান না। পারিবারিক সংগীত ঐতিহ্য তার ভিত্তি হলেও, নিজের সাউন্ড, নিজস্ব দর্শক এবং আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন নিজের চেষ্টাতেই। তাই তিনি নিজের অবস্থানকে দেখেন ‘লেগ্যাসির ভেতরেই গড়ে ওঠা স্বনির্মিত শিল্পী’ হিসেবে।
ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরানো গান প্রসঙ্গে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ‘যে প্রেম’-এর কথা। এই গানটি তাকে বৃহৎ শ্রোতাদের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। তার ভাষায়, এই গানটির পর থেকেই শ্রোতারা তাকে শুধু কণ্ঠশিল্পী নয়, একজন পূর্ণাঙ্গ শিল্পী হিসেবে দেখতে শুরু করে।
শুরুর দিকে নানা ধরনের গানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেও সময়ের সঙ্গে তিনি বুঝে যান, আবেগঘন সুর, রোমান্টিক আবহ এবং আন্তরিক পরিবেশনাই তার শক্তি। এই উপলব্ধি কোনো পরিকল্পনার ফল নয়, বরং শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া থেকেই ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়েছে।
স্টেজ পারফরম্যান্স নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি স্মরণ করেন ২০২৫ সালে নিউইয়র্কে একটি কনসার্টের অভিজ্ঞতা। সেখানে পুরো দর্শক একসঙ্গে তার গান গেয়েছিল—যা তার কাছে অবিস্মরণীয় এক মুহূর্ত। এমন অভিজ্ঞতাই তাকে বারবার মনে করিয়ে দেয় কেন তিনি সংগীত নিয়ে বাঁচেন।
ডিজিটাল যুগে সংগীতচর্চার চ্যালেঞ্জ নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন প্রতীক। তার মতে, এখন সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং প্রাসঙ্গিক থাকা। অসংখ্য কনটেন্টের ভিড়ে নিজের স্বকীয়তা ধরে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে শ্রোতাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করাই বড় লড়াই।
সংগীত পরিবারের সন্তান হওয়ায় তাকে বাড়তি প্রত্যাশার চাপও নিতে হয়েছে। তুলনা আর সমালোচনার মধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে বারবার। প্রতীক মনে করেন, তার অবস্থানটি কেবল পারিবারিক পরিচয়ের কারণে নয়, বরং নিজের যোগ্যতার ফলেই তৈরি হয়েছে।
গান নির্বাচন ও গায়কি নিয়ে তার দর্শনও স্পষ্ট-সবকিছুর আগে তিনি গুরুত্ব দেন অনুভূতিকে। কোনো গান যদি তাকে ভেতর থেকে স্পর্শ না করে, তাহলে তা শ্রোতার কাছেও পৌঁছাবে না-এটাই তার বিশ্বাস।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রতীক হাসান আরও বিস্তৃত সংগীত জগতে কাজ করতে চান। বাংলা গানের সঙ্গে বৈশ্বিক সাউন্ডের মিশেল ঘটিয়ে নতুন ধারা তৈরি করার ইচ্ছা তার। আরএনবি, আফ্রো ঘরানা ও আধুনিক পপ নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা থাকলেও, তার সংগীতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে আবেগ—এ কথাও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন এই শিল্পী।

২৪.৫৮°সে
