শূন্য থেকে সম্রাট ; ২২শে পা দিলেন শাকিব খান

সেলিম শাকিব সেলিম শাকিব

সম্পাদক, সিনে বার্তা।

প্রকাশিত: ৮:২৪ PM, মে ২৮, ২০২০

শাকিব খানের জন্ম ১৯৭৯ সালের ২৮ মার্চ, জন্ম নাম মাসুদ রানা। পৈত্রিক নিবাস গোপালগঞ্জ, বেড়ে ওঠা নারায়ণগঞ্জ। তরুণ শাকিব খানের আগ্রহ ছিল মার্শাল আর্ট আর নাচে। নাচ শিখতেন চলচ্চিত্রের নৃত্যপরিচালক আজিজ রেজার কাছে, আজিজ রেজার মাধ্যমে পরিচালক আফতাব খান টুলু’র সাথে পরিচয়। টুলু সাহেব “সবাইতো সুখী হতে চায়” ছবির জন্য শাকিব খানকে নির্বাচন করেন। নানা জটিলতায় ছবিটির মুক্তি বিলম্বিত হয়।

এরই মাঝে শাকিব খান “অনন্ত ভালবাসা” নামের ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হন। পরিচালক ছিলেন সালমান শাহ, শাকিল খান, মৌসুমীদের মত তারকাদের আবিষ্কারক সোহানুর রহমান সোহান। তিনি মাসুদ রানা নাম বদলে রাখেন শাকিব খান। “অনন্ত ভালবাসা”য় শাকিব খানের বিপরীতে ছিলেন নায়িকা মৌসুমীর ছোটবোন ইরিন জামান। ১৯৯৯ সালে ২৮ মে মুক্তি পায় “অনন্ত ভালবাসা”। ঢালিউডের আকাশে উদয় হয় নতুন এক নক্ষত্রের। সেই থেকে শুরু, আজ ২১ বছর পেড়িয়ে ২২ বছরের ক্যারিয়ারে পা রাখছে ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। শাকিব খানের বর্নাঢ্য ক্যারিয়ার তার ভক্তদের কাছে তুলে ধরা হলো ৫টি বিভাগে।

১৯৯৯-২০০২:- প্রাথমিক পর্যায়

মাত্র ৫ হাজার টাকা সম্মানী নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন শাকিব খান। শুরুর সময়টাতেই উপহার দিয়েছিলেন হিট সিনেমা। ২০০০ সালে প্রথমবারের মত জুটি বাঁধেন তখনকার শীর্ষনায়িকা শাবনুরের সাথে “গোলাম” ছবিতে। এই ছবিতে পারিশ্রমিক ছিল ২৫ হাজার টাকা! পরে ছবিটি সুপারহিট হওয়ায় প্রযোজক খুশি হয়ে লক্ষাধিক টাকা দেন বলে তখন পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশ হয়।
একই বছর জুটি বাঁধেন পপি ( দুজন দুজনার) ও পূর্ণিমার (আজকের দাপট) সাথে। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে শাকিব খান- গোলাম, হীরা চুনি পান্না, শিকারী, বন্ধু যখন শত্রু, ফুল নেবনা অশ্রু নেব, নাচনেওয়ালী প্রভৃতি সুপারহিট সিনেমা উপহার দেন।

২০০৩-২০০৫: টিকে থাকার লড়াই

ঢালিউডকে তখন অশ্লীলতা গ্রাস করে ফেলছে। ওই সময় সুস্থ ধারার ছবির আকাল চলছিল। সুতোর উপর ঝুলছিল তাঁর ক্যারিয়ার। তবে শাকিব খানের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ২০০৫ সালে মুক্তি প্রাপ্ত হাসিবুল ইসলাম মিজানের “আমার স্বপ্ন তুমি” সিনেমাটি। এতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন শাবনুর। এই ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয় করে সব আলো নিজের করে নেন শাকিব খান।

২০০৬-২০১৩: শুধুই এগিয়ে চলা

২০০৬ সালে প্রথমবার জুটি বাঁধেন শাকিব খান – অপু বিশ্বাস। কোটি টাকার কাবিন, চাচ্চু, দাদীমা, পিতার আসন- পরপর চারটি ব্লকবাস্টার উপহার দিয়ে দেশের শীর্ষনায়ক হন ২০০৬ সালেই। পরের বছর উপহার দেন- তোমার জন্য মরতে পারি, আমার প্রাণের স্বামী’র মত ব্লকবাস্টার সিনেমা।


২০০৮ সালে এসে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠেন শাকিব খান। এবছর- প্রিয়া আমার প্রিয়া, তুমি স্বপ্ন তুমি সাধনা, এক টাকার বউ, প্রভৃতি সিনেমা উপহার দেন।
২০১৩ সাল পর্যন্ত উপহার দেন- আমার প্রাণের প্রিয়া, মনে প্রাণে আছো তুমি, নিশ্বাস আমার তুমি, কিং খান, নাম্বার ওয়ান শাকিব খান, একবার বলো ভালবাসি, খোদার পরে মা, ঢাকার কিং, মাই নেম ইজ খান, পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী সহ অনেক সুপারহিট, ব্লকবাস্টার সিনেমা।

২০১৪-২০১৫: সাময়িক ক্রান্তিকাল

২০১২ সালে বাংলাদেশে “ডিজিটাল সিনেমা” চালু হলে প্রযুক্তিগত কারণে অনেক সিনেমাহল বন্ধ হতে থাকে। ইন্ডাস্ট্রিতে শুরু হয় অস্থিরতা।

এছাড়া হিন্দি ছবির আমদানি ইস্যুতে চলচ্চিত্রে মন্দাভাব সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় প্রযোজনায় আসেন শাকিব খান। উপহার দেন বিগ বাজেটের “হিরো দ্যা সুপারস্টার” (২০১৪), বছরের সেরা ব্যবসাসফল ছবি। মন্দার বাজারে এর পরের বছরও উপহার দেন বছরের সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল সিনেমা “লাভ ম্যারেজ”।

 

২০১৬ থেকে বর্তমান: নতুন উপাখ্যান

২০১০ এর পর থেকে ফিটনেস সমস্যায় ভুগছিলেন শাকিব খান। ভক্তদের একেবারে চমকে দেন “শিকারি” (২০১৬) দিয়ে। যৌথ প্রযোজনার এই ছবিটি সেবছর রোজার ঈদে মুক্তি পেয়ে ব্লকবাস্টার হয়। ঘটে নতুন এক শাকিব খানের। এই ছবি দিয়েই “মিশন কলকাতা” শুরু করেন শাকিব খান। কলকাতার বড়বড় প্রোডাকশন হাউজ শাকিব খানের শিডিউল পেতে লাইন ধরেন। ২০১৬ থেকে এ পর্যন্ত শাকিব খান শিকারি ছাড়াও ভক্তদের দিয়েছেন- সম্রাট, নবাব, বসগিরি, সত্তা, চালবাজ, ভাইজান এলোরে, নাকাব, এর মত সুপারহিট সিনেমা। এখনো অব্যাহত রয়েছে শাকিব খানের জয়যাত্রা। প্রযোজনা করেছেন আরো দুটি সুপারহিট চলচ্চিত্র পাসওয়ার্ড এবং বীর।

সাফল্যের গল্প যত সহজে বলা যায়, এর পেছনের গল্প অত সহজ নয়। শাকিব খান দেশের শীর্ষনায়ক, এ কথা সত্য। তবে তিনিই সবচেয়ে বেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন। ২০১১ সালে শাকিব খান প্রথমবারের মত নিষিদ্ধ হন প্রদর্শক সমিতি দ্বারা। তবে শাকিব খান ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খান ২০১৭ সালে। সেবছরই নিষিদ্ধ হন দুইবার। যদিও পরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। আর এরপর তাঁর সিনেমা মুক্তির ঘোষণা দিলেই তা আটকানোর ষড়যন্ত্র করা হয় বিভিন্ন মহল থেকে।

এতকিছুর পরও শাকিব খান তাঁর এই লম্বা ক্যারিয়ারে অনেককিছু পেয়েছেন। মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার, দুই বাংলার সম্মিলিত পুরস্কার এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং সম্মানিত সম্মাননা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার (২০১০, ২০১২, ২০১৫, ২০১৭) পেয়েছেন।