Header Border

ঢাকা, সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং | ২৭শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) ৩২.৯৬°সে

ফ্যাশনে ঐতিহ্যের নতুন রূপ দিচ্ছেন অর্ণব

দেশীয় ঐতিহ্য, নান্দনিক রুচি ও আধুনিকতার সমন্বয়ে ফ্যাশন জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন গোলাম মর্তুজা আলী অর্ণব। পেশায় আইন অঙ্গন থেকে এলেও ভালোবাসা ও আগ্রহের জায়গা থেকে বেছে নিয়েছেন ফ্যাশন ডিজাইনিং ও কোরিওগ্রাফিকে। বিগত দশ বছর ধরে বাংলাদেশ ও ভারতে সুনাম ও সম্মানের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ফ্যাশনের প্রতি গভীর অনুরাগ, সৃজনশীলতা এবং দেশীয় বস্ত্রশিল্পের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে প্রতিনিয়ত নতুনভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।

অর্ণব জানান, আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ফ্যাশন ও গ্ল্যামার জগতের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল বরাবরই। সেই আগ্রহ থেকেই কলকাতার আই.এন.আই.এফ.ডি. থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি দেশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকেও এ বিষয়ে ডিপ্লোমা নিয়ে পেশাগতভাবে কাজ শুরু করেন।

ফ্যাশন ডিজাইনে নিজের কাজের ধরন সম্পর্কে অর্ণব বলেন, ফিউশনধর্মী ডিজাইন নিয়ে কাজ করতে তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাঁর ডিজাইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হ্যান্ডলুম, কারচুপি ও জারদোসির ব্যবহার। বিশেষ করে কাতান কাপড়ের প্রতি রয়েছে তাঁর আলাদা ভালো লাগা। সুতা থেকে শুরু করে একটি পোশাকের সম্পূর্ণ নকশা ও নির্মাণপ্রক্রিয়ায় তিনি যত্নশীল থাকার চেষ্টা করেন। রং, কাপড় এবং ফিনিশিং-প্রতিটি বিষয়কেই সমান গুরুত্ব দেন এই ডিজাইনার।

নিজের প্রথম পোশাক তৈরির অভিজ্ঞতা স্মরণ করে অর্ণব জানান, তখন তিনি সার্টিফায়েড ডিজাইনার ছিলেন না। তবে উন্নতমানের কাপড় নির্বাচন এবং রঙের সমন্বয়ে তাঁর রুচি প্রশংসিত হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে পরবর্তী সময়ে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

বাংলাদেশের বর্তমান ফ্যাশন ট্রেন্ড নিয়ে অর্ণবের পর্যবেক্ষণ, এখন পোশাক নির্বাচনে আরাম ও স্টাইল -দুটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন ক্রেতারা। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের রুচি ও চাহিদায় পরিবর্তন আসে, আর সেখান থেকেই তৈরি হয় নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ড। আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের ক্ষেত্রে পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবও বাংলাদেশের পোশাকের প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন তিনি।

গ্রীষ্মপ্রধান বাংলাদেশের আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় রেখে হালকা রঙ, আরামদায়ক কাপড় ও রুচিশীল নকশাকে জনপ্রিয়তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখেন অর্ণব। তাঁর মতে, দেশীয় সংস্কৃতিকে আধুনিকতার সঙ্গে মিশিয়ে উপস্থাপন করাই হতে পারে বাংলাদেশের ফ্যাশনের অন্যতম শক্তি।

দেশীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্যের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। তবে গুণগত মানের বিষয়ে আরও সচেতনতা বাড়াতে পারলে এ খাতে আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব। একই সঙ্গে ফ্যাশন ডিজাইনারদের জন্য সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদা পূরণ করাকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি। ডিজাইনের অনুকরণ প্রসঙ্গে অর্ণবের মত, অন্যের কাজ থেকে ধারণা নেওয়া স্বাভাবিক হলেও হুবহু নকল করা অনুচিত। টেকসই ফ্যাশনের ক্ষেত্রেও প্রতিটি ডিজাইনে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ব্যক্তিগত পছন্দে টি-শার্ট ও জিন্সে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন অর্ণব। তবে ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে নিজের ডিজাইন করা পাঞ্জাবিই তাঁর বিশেষ পছন্দ। শাড়ির নকশায় এক রঙের সঙ্গে বিভিন্ন রঙের উপকরণের সমন্বয় করতেও ভালোবাসেন তিনি। দেশীয় ঐতিহ্যকে আধুনিক ফ্যাশনের ভাষায় তুলে ধরার প্রত্যয় নিয়েই এগিয়ে যেতে চান এই ফ্যাশন ডিজাইনার ও কোরিওগ্রাফার।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

নৃত্য একাডেমি নিয়ে নমিরার নতুন উদ্যোগ
বাউলসাধনায় স্বীকৃতি পেলেন রুমি সরকার
নিরাপদ ও আধুনিক নৌ খাত গড়ার অঙ্গীকারে বিশ্ব নৌ দিবস
শাহরিয়ার-সুমির হাত ধরে খিলগাঁওয়ে প্রো এক্স সিগনেচারের যাত্রা শুরু
নতুনদের সম্ভাবনায় আলোকিত ফ্যাশনের রানওয়ে
মেয়ের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মা সেলিনা আক্তার প্রিয়া

আরও খবর