ইতালিতে হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন ছোট ও বড় পর্দার অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তাকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে মারা হয়েছে, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিনেত্রীকে হেনস্তার প্রতিবাদ জানিয়েছে তার সহকর্মী থেকে শুরু করে নানা স্তরের মানুষ।
এর প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পারভেজ আবীর চৌধুরী ফেসবুকে লিখেন, ইতালিতে হামলা ও হেনস্তার পর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের কথাগুলো শুনছিলাম। তাঁর কণ্ঠে ক্ষোভ ও কষ্ট ছিল, কিন্তু ভয় ছিল না। হামলাকারীরা তাঁকে অপমান করেছে, তাঁর শরীরে আঘাত করেছে; কিন্তু তাঁর কণ্ঠ থামাতে পারেনি। বরং বাঁধনের ‘আমাকে দমানো সহজ নয়’ কথাটি এখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে। অথচ বাঁধন ইতালিতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে প্রতিনিধিত্ব করতে। ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে তাঁর উপস্থিতি আমাদের জন্য গর্বের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই গর্বের মুহূর্তের মধ্যেই মেস্ত্রে শহরে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি তাঁকে ঘিরে ধরেন। রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কটূক্তি করেন, তাঁর দিকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে মারেন। তাঁর মুঠোফোন ফেলে দেওয়া হয় এবং কানের পাশেও আঘাত করা হয়। আরও কষ্টের বিষয়, তখন তাঁর পাশে চার বছরের একটি শিশুও ছিল। শিশুটির কান্নাও হামলাকারীদের থামাতে পারেনি।
তিনি আরো লিখেন, রাজনৈতিক মতভেদ সমাজে থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। বাঁধনের বক্তব্য বা রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে কারও দ্বিমতও থাকতে পারে। কিন্তু সেই দ্বিমতের জবাব গায়ে হাত তুলে দেওয়া যায় না। কথার জবাব কথা দিয়ে দিতে হয়, যুক্তির জবাব যুক্তি দিয়ে। একজন নারীকে ঘিরে ধরে অপমান করা কিংবা শারীরিকভাবে আঘাত করা কোনো রাজনীতি নয়; এটি কাপুরুষতা।
ঘটনাটি শুধু বাঁধনের ব্যক্তিগত অপমান হিসেবেও দেখার সুযোগ নেই। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া একজন শিল্পীর ওপর আঘাত শেষ পর্যন্ত দেশের মর্যাদাতেই আঘাত করে। কারণ একজন শিল্পী যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়ান, তখন তিনি শুধু নিজের পরিচয় বহন করেন না; তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের নামটিও উচ্চারিত হয়।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আমি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। ইতালি সরকার, বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমার দাবি, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
আবীর লিখেন, আপনার সঙ্গে আমাদের কারও মতের মিল থাকতে পারে, কারও অমিল। কিন্তু আপনার কণ্ঠ থামিয়ে দেওয়ার অধিকার কারও নেই। যে আঘাত আপনাকে কষ্ট দিয়েছে, সেই আঘাতই আজ আমাদের বিবেককে প্রশ্ন করছে। বিদেশের মাটিতে আপনি একা আক্রান্ত হননি; আপনার সঙ্গে অপমানিত হয়েছে বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও মর্যাদা। আপনি বলেছিলেন, একজন আজমেরী হক বাঁধনকে দমানো এত সহজ নয়। সত্যিই তাই। শিল্পীর কণ্ঠ আঘাতে থেমে যায় না; অন্যায়ের মুখে বরং আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রিয় বাঁধন, আপনি একা নন। দেশের শিল্পীসমাজ আপনার পাশে আছে, আমরাও আছি। আপনার কণ্ঠ থামবে না।

২৮.২১°সে
