আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূইয়ার বিরুদ্ধে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। এ ঘটনায় রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তবে অভিযোগকারীর দাবি, থানায় যাওয়ার পর প্রথমে তার অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
খিলক্ষেত থানায় দেওয়া অভিযোগে ইসরাত জাহান নামের ওই নারী উল্লেখ করেন, গত ২৪ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে ইমন নামে এক ব্যক্তি তাকে আশিয়ান গ্রুপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার প্রস্তাব দেন। এ জন্য ১৬ লাখ টাকার একটি চুক্তির কথাও বলা হয়। পরে ওই দিন রাত ৮টার দিকে মাকে সঙ্গে নিয়ে খিলক্ষেত থানার ৩০০ ফুট এলাকার আশিয়ান মেডিকেল কলেজের একটি অফিসে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূইয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি।
অভিযোগে ইসরাত জাহান দাবি করেন, তার মা বাসায় ফিরে যাওয়ার পর নজরুল ইসলাম ভূইয়া তাকে বলেন, ‘তোকে আমি ৬ মাস যাবৎ খুঁজতেছি, তুই আমার টাকায় অন্য ব্যাটাকে সঙ্গে নিয়ে বাসার পর্দা কিনেছিস।’ তবে তিনি ভুল ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে জানিয়ে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ইমন নামের ওই ব্যক্তি তাকে ইশারায় অভিযুক্ত ব্যক্তির কথায় সম্মতি জানাতে বলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে নজরুল ইসলাম ভূইয়া একটি শর্টগান বের করে তাকে গুলি করার হুমকি দেন। এরপর তার হাত-পা বেঁধে গলা চেপে ধরা হয় এবং লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে চুল ধরে টেনে মেঝেতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
ইসরাত জাহান আরও অভিযোগ করেন, তাকে জোর করে কফি খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়। এতে তিনি অস্বীকৃতি জানালে তার মুখে গরম কফি ছুড়ে মারা হয়। পরে কাঁচি হাতে নিয়ে তার চেহারা নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাকে অন্য একজন নারী ভেবে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন করা হয় বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় মারধরের পর তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক মদের সঙ্গে ওষুধজাতীয় কিছু মিশিয়ে পান করানো হয়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্য একটি কক্ষে গেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভবনের প্রথম তলার বারান্দা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে বাসায় ফেরেন তিনি।
ইসরাত জাহানের দাবি, ঘটনার পর প্রায় এক দিন তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরে ২৬ জুলাই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এরপর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে খিলক্ষেত থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
তবে অভিযোগে ওঠা ঘটনাগুলো নিয়ে এখন পর্যন্ত নজরুল ইসলাম ভূইয়া বা আশিয়ান গ্রুপের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খিলক্ষেত থানার পক্ষ থেকেও অভিযোগ গ্রহণ বা এ বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
অভিযোগে উত্থাপিত ঘটনাগুলো এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা অন্য কোনো স্বাধীন সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার আগে বিষয়গুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

২৬.৬৭°সে
